Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

                                  জেলা কারাগার, লালমনিরহাট

লালমনিরহাট জেলা কারাগারের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :


    লালমনিরহাট জেলা সৃষ্টির পরও এখানে কোন কারাগার ছিল না। এমনকি এখানে কোন মহুকমা কারাগারও ছিল না। ১৯৮১ সালে মহুকুমা সৃষ্টির পর হতে ১৯৯৮ সালে পর্যন্ত রংপুর  কেন্দ্রীয়  কারাগার হতে আসামী আনা-নেয়া করে এ জেলার বিচারীক কার্য পরিচালিত হতো এবং আসামীদের রাখা হতো রংপুর কেন্দ্রিয় কারাগারে। অতপর লালমনিরহাট জেলা কারাগারটি জেলা শহরের বাহিরে স্টেডিয়ামের পার্শ্বে ২৮-০৫-১৯৯৮ খ্রিঃ তারিখে তৎকালীন মাননীয় কারা মহাপরিদর্শক মহোদয় লালমনিরহাট জেলা কারাগার উদ্ভোধন করেন।

 

এক নজরে লালমনিরহাট জেলা কারাগার :


ভূমরি পরমিান :  কারাভ্যন্তরে  ভূমরি পরমিান = ০৩.৭৫  একর এবং বহস্থিঃ ভূমরি পরমিান = 2.32  একর  মোট= 06.07 একর ভূমরি উপর নর্মিতি।

অনুমোদতি জনবলঃ লালমনিরহাট জেলা কারাগাররে অনুমোদতি জনবলরে সংখ্যা র্সবমোট= ৬০ জন। এর মধ্যে র্কমর্কতা= ০৫ জন ও র্কমচারী= ৫৫ জন।
বন্দীর ধারণ ক্ষমতা ও র্বতমানে বন্দীর সংখ্যা ঃ লালমনিরহাট জেলা কারাগারে র্সবমোট বন্দীর ধারণ ক্ষমতা পুরুষ = ১৯০ জন ও মহলিা= ১০ জন র্সবমোট = ২০০ জন। র্বতমানে অবস্থানরত বন্দীর সংখ্যা পুরুষ= 597  জন ও মহলিা= 19 জন র্সবমোট=626 জন।

কারাভ্যন্তরের ভবনসমূহ : সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ব্যারাক-০১ টি ০২ তলা, বিচারাধীন বন্দি ব্যারাক-০১ টি ০২ তলা, ও শ্রেণী প্রাপ্ত বন্দি ব্যারাক-০১ টি ০১ তলা। এছাড়াও কিশোর বন্দিদের জন্য একটি ওয়ার্ড এবং মহিলা বন্দিদের জন্য একটি আলাদা ওয়ার্ড রয়েছে। বন্দিদের চিকিৎসার জন্য একটি কারা হাসপাতাল ভবন এবং সেল ভবন রয়েছে।

নবাগত বন্দী সংক্রান্ত :

  •  আদালত হতে আগত বন্দীদের সম্মানে গ্রহণ করা হয় এবং শ্রেণী বিন্যাস করে স্থান বরাদ্দ করা হয়, কারাগারে তাদের অধিকার ও আইনকানু সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিয়ে তাদের উজীবিত করা হয়। তাদের ব্যক্তিগত মালামাল হেফাজত করা হয় এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নির্ধারিত তারিখে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
  • তারিখ না থাকলে সংগ্রহপূর্বক আদালতে হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়। হতদরিদ্র বন্দীদের বিনা খরচে উকিল পাওয়া/আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়।

বন্দীদের সাথে দেখা স্বাক্ষাত :

  • সাধারণত হাজতীগণ ১৫ দিনে ১ বার কয়েদীগণ মাসে ১ বার আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করার সুযোগ লাভের অধিকারী, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সময়সীমা শিথিল যোগ্য।
  • ডিটেন্যু ও নিরাপদ হেফাজতীদের সাথে দেখা করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/আদালতের অনুমতি লাগে। সাক্ষাতের সময় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং সর্বোচ্চ ০৫ জন একসাথে একজনের সাথে দেখা করতে পারেন,উকিলের সাথে সাক্ষাতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, বন্দীদের জন্য দেয়া মালামাল যথাযথভাবে পৌছানো হয়।মোবাইল বা কোন নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ে সাক্ষাত কক্ষে  প্রবেশ করা যায় না।সুলভে/নির্বিঘ্নে বন্দীদের দ্রব্যাদি সরবরাহের লক্ষ্যে কারা এলাকায় ক্যান্টিন/দোকান আছে। প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সেখান থেকে ক্রয় করে বন্দীদের সরবরাহ করা যায়।

বিশ্রামগারের ব্যবস্থা :

  • কারা এলাকায়  প্রবেশ পথের পাশে বিশ্রামগার রয়েছে। সেখানে পানীয় জল এবং টয়লেটের ব্যবস্থা আছে। অফিসে কোন সংবাদ পৌছাতে হলে অনুসন্ধানের সাহায্য নিন।

পিসিতে টাকা জমাদান :

  • বন্দীদের ব্যক্তিগত তহবিলে টাকা জমা রাখার সুযোগ রয়েছে এবং ডাকযোগে অথবা ব্যক্তিগতভাবে টাকা জমা দেয়া যায়। কারাগারে বন্দীর পিসি ছাড়া অন্য কোন কাজে অর্থ গ্রহণের সুযোগ নাই। বন্দীর পিসিতে অর্থ জমা দিলে সমপরিমাণের রশিদ দেয়া হয়।

ওকালতনামা স্বাক্ষর :

  • ওকালতনামা জমা দিতে কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে বাক্স রাখা আছে।নির্ধারিত সময় অন্তর ওকালতনামা স্বাক্ষরান্তে বন্দীর কৌশলী/আত্মীয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ওকালতনামায় বন্দীর স্বাক্ষরের জন্য টাকা লাগেনা।

মুক্তি সংক্রান্ত :

  • সাজা শেষে /জামিনে মুক্তিযোগ্য বন্দীর তালিকা প্রধান ফটকের সামনে নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। মুক্তির আদেশে ভুল থাকলে ঐ নামের তালিকা বাহিরে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় এবং লাউড স্পিকারের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

বন্দীদের সাথে আচরণ ঃ

  • বন্দীদের সাথে কারাগারে মানবিক আচরণ করা হয়। এখানে তাদের মৌলিক মানবাধিকারসমুন্নত, তবে শৃক্সখলা বজায় রাখার জন্য তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়া হয়। কারাগারে নিয়ম শৃক্সখলা ভঙ্গজনিত অপরাধ ছাড়া অকারণে শাস্তি দেয়া হয় না। কারা বিধি অনুসারে প্রাপ্যতা অনুযায়ী বন্দীদের খাবার, আবাসন নিশ্চিত করা হয়।

চিকিৎসা :

  • অসুস্থ বন্দীদের কারা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিতসা দেয়া হয়। প্রয়োজনে বাহির হাসপাতালেও প্রেরণ করা হয়। মাদকাসক্ত বন্দীদেরকে আলাদা করে চিকিতসা দেয়া হয়। সর্বক্ষণিক একজন সহকারী সার্জন ও একজন ডিপ্লোমা নার্স দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

লাইব্ররেী ঃ বন্দীদরে জন্য কারাভ্যান্তরে লাইব্ররেীর ব্যবস্থা রয়েছে। কারাভ্যন্তরে প্রবশেে নষিদ্ধি এমন বই ছাড়া সকল ধরণরেই বইপত্র রয়েছে। যা পড়ে বন্দীগণ জ্ঞান র্অজন করতে পারে।

প্রশিক্ষণ :

  • গার্ডিং ষ্টাফদের জন্য ০৬ মাসে মৌলিক প্রশিক্ষণ। গাডিং ষ্টাফদের প্রতি বছর শীতকালীন ফায়ারিং অনুশিলন। দৈনিক ও সাপ্তাহিক পিটি প্যারেড। আকস্মিক এলার্ম / মহড়ার । ষ্টাফদের মাসিক দরবার। শিক্ষাগত যোগ্যতা/দক্ষতা/অভ্যাস/জীবনযাত্রার প্রকৃতি ও আগ্রহ অনুযায়ী বিভিন্ন পেশায় বন্দীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। যাতে সাজা শেষে কর্মসংস্থান হয়।

কল্যাণমূলক কার্যক্রম :

  • নিরক্ষর বন্দীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিক্ষিত বন্দীদের জ্ঞান চর্চার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য জ্ঞানদানের পাশাপাশি মরণব্যাধি এইডসের ভয়াবহতা/প্রতিরোধ সম্পর্কে বন্দীদের সচেতন করা হয়। বন্দীদের স্ব স্ব ধর্ম প্রতিপালনের ব্যবস্থা রয়েছে। দরবারের মাধ্যমে বন্দীদের সমস্যা শ্রবণ করা হয় এবং সমাধানের ব্যবস্থা করা হয়। চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা যেমন- টিভি, রেডিও, ক্যারাম, ভলিবল ও লুডু খেলার ব্যবস্থা রয়েছে। বন্দীদের চরিত্র সংশোধনের জন্য মোটিভেশনাল ক্লাস চালু রয়েছে এবং নানাবিধ প্রেষণামূলক কাজ যেমন- টেলিভিশন/ফ্রিজ/রেডিও/ফ্যান/চার্জার লাইট মেরামত ইত্যাদি। কারাগারের ভিতরের ক্যান্টিনে সুলভে জিনিসপত্র পাওয়া যায়। বিধি অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত বন্দীগণ নিজ জেলার কারাগারে স্থানান্তরিত হতে পারে। ভাল আচরণ, কারাগারের নিয়মশৃঙ্খলা পালন, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণদানে এবং শ্রমের বিনিময়ে সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের সাজার ৪ এর ১ অংশ বা ক্ষেত্রভেদে তারও বেশি সাজা হ্রাসের সুযোগ রয়েছে।

কারা বাগানে উৎপাদিত দ্রব্যের : স্বল্প পরিসরের যে চাষযোগ্য জমি এ কারাগারের ভিতরে রয়েছে তাতে বিবিধ মৌসুমি শাক সবজি উৎপাদন করা হয়। যা বন্দীদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সরকারের ব্যয় সংকোচনে ভূমিকা রাখা হয়। উৎপাদিত ফসলের মধ্যে রয়েছে-বিভিন্ন প্রকার শাক যেমন-লাল শাক, পুঁই শাক, পালং শাক, কলমি শাক ইত্যাদি। টমেটো, গাজর, ফৃলকপি, বাধাকপি, মুলা, বেগুন, ঢেড়স, ডাটা ইত্যাদি সবজি এ কারাগারের জমিতে উৎপাদিত ফসলের মধ্যে অন্যতম।

ছবি